লাম্পি স্কিন ডিজিজ: আতঙ্ক নয়, প্রয়োজন সচেতনতা
2026-06-18
লাম্পি স্কিন ডিজিজ একটি ভাইরাসজনিত সংক্রামক রোগ, যা প্রধানত গরু ও মহিষে দেখা যায়। রোগটি প্রথম ১৯২৯ সালে আফ্রিকার জাম্বিয়ায় শনাক্ত হয়। বাংলাদেশে ২০১৯ সালে এ রোগের প্রাদুর্ভাব দেখা যায় এবং পরবর্তীতে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ে। সম্প্রতি দেশের কিছু এলাকায় রোগটি আবারও দেখা যাচ্ছে। তাই আতঙ্কিত না হয়ে সময়মতো সচেতনতা, প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা এবং অভিজ্ঞ ভেটেরিনারিয়ানের পরামর্শ নেওয়া অত্যন্ত জরুরি।
রোগের সাধারণ লক্ষণসমূহঃ
প্রথম পর্যায়ে আক্রান্ত প্রাণীর উচ্চ জ্বর হতে পারে, যা ১০৪–১০৬ ডিগ্রি ফারেনহাইট পর্যন্ত উঠতে পারে। এ সময় প্রাণীর শরীরে ব্যথা, দুর্বলতা এবং খাবার গ্রহণে অরুচি দেখা দেয়।
আক্রান্ত প্রাণীর শরীরের বিভিন্ন স্থানে গোলাকার গুটি, ফোস্কা বা চামড়ার নিচে শক্ত ফুলে ওঠা অংশ দেখা যেতে পারে।
প্রাণীর পা, গিরা এবং শরীরের নিচের অংশ ফুলে যেতে পারে। অনেক সময় প্রাণী খুঁড়িয়ে হাঁটে বা স্বাভাবিকভাবে চলাফেরা করতে পারে না।
রোগের শেষ পর্যায়ে কিছু গুটি বা ফোস্কা ফেটে ক্ষত সৃষ্টি হতে পারে। ক্ষতস্থান থেকে রক্ত বা পুঁজের মতো তরল বের হতে পারে।
কিছু ক্ষেত্রে ক্ষত শরীরের অন্যান্য অংশে ছড়িয়ে পড়ে এবং প্রাণীর শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি ঘটাতে পারে।
মুখ বা খাদ্যনালীর ক্ষতের কারণে প্রাণী পানি পান ও খাবার গ্রহণে অনীহা প্রকাশ করতে পারে।
রোগটি যেভাবে ছড়াতে পারেঃ
মশা, মাছি, আঠালী, টিক ও মাইটের কামড়ের মাধ্যমে রোগটি এক প্রাণী থেকে অন্য প্রাণীতে দ্রুত ছড়াতে পারে।
আক্রান্ত প্রাণী এক স্থান থেকে অন্য স্থানে পরিবহন করলে রোগটি নতুন এলাকায় ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি থাকে।
আক্রান্ত প্রাণীর লালা, দুধ, নাক-চোখের নিঃসরণ এবং সরাসরি সংস্পর্শের মাধ্যমেও রোগ ছড়ানোর আশঙ্কা থাকে।
আক্রান্ত প্রাণীর পরিচর্যাকারী, ব্যবহৃত যন্ত্রপাতি, অপরিষ্কার খামার পরিবেশ এবং একই সুঁই বা সরঞ্জাম ব্যবহারের মাধ্যমেও সুস্থ প্রাণী আক্রান্ত হতে পারে।
আমাদের করণীয়ঃ
লাম্পি স্কিন ডিজিজ একটি গুরুতর রোগ, যা দুগ্ধ খামার ও মোটাতাজাকরণ খামারের জন্য বড় ধরনের অর্থনৈতিক ক্ষতির কারণ হতে পারে। তাই আক্রান্ত প্রাণী দেখা দিলে দ্রুত আলাদা করে রাখতে হবে এবং অভিজ্ঞ ভেটেরিনারিয়ানের পরামর্শ অনুযায়ী চিকিৎসা নিতে হবে।
খামারে মশা-মাছি ও আঠালী নিয়ন্ত্রণ, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা, আক্রান্ত প্রাণী পরিবহন না করা, একই সুঁই বা চিকিৎসা সরঞ্জাম পুনরায় ব্যবহার না করা এবং সুস্থ প্রাণীর সুরক্ষায় প্রয়োজনীয় প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা জরুরি।
এই রোগের প্রভাবে দুধ উৎপাদন কমে যায়, ওজন হ্রাস পায় এবং খামার অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
প্রাণিসেবা ভেট আপনার পাশেঃ
প্রাণিসেবা ভেট — pranishebavet.com.bd দক্ষ ও বিশেষজ্ঞ ভেটেরিনারিয়ানের মাধ্যমে মানসম্মত ও বিশেষায়িত প্রাণিস্বাস্থ্য সেবা প্রদান করে থাকে। খামারি চাইলে দেশের যেকোনো প্রান্ত থেকে মোবাইল ফোন যেকোনো সময়ে প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও চিকিৎসা সেবা গ্রহণ করতে পারেন।
এই সেবার মাধ্যমে খামারিরা মোবাইল ফোন ব্যবহার করে অনলাইন কনসালটেন্সি, চিকিৎসা পরামর্শ এবং প্রেসক্রিপশন ইমেইল বা মেসেজের মাধ্যমে দ্রুত পাইতে পারেন।
সেবা নিতে ফোন করুনঃ ০১৮৪৪৫২২০২৭
ভিজিট করুনঃ http://pranishebavet.com.bd/
সচেতন হোন, খামারকে সুরক্ষিত রাখুন।